 |
ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ মঞ্জুর ইলাহীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ তুলে তা নিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইউরোপে একটি কন্টেইনার পাঠাতে খরচ হতো ৬শ' ডলার। আগের সরকারের সময় এ খরচ ছিল ১৭শ' ডলার আর বর্তমান সরকারের সময় সেটা হয়েছে ১২শ' ডলার। ঘুষের কারণে এভাবেই খরচ বেড়ে যাচ্ছে।" "এভাবে চলতে থাকলে সৎভাবে ব্যবসা করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। ব্যবসা চালাতে নাভিশ্বাস উঠে যায়। মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে পড়ি। জানি না এভাবে কতদিন ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবো", বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মঞ্জুর। ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত 'ইমপ্যাক্ট অব ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অন দি ইকনোমিক' শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। ইআরএফ-এর সভাপতি মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোডের্র সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল ইসলাম। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, "সমাজে দিন দিন ফিন্যান্সিয়াল অপরাধ বেড়েই চলছে। এ ধরনের অপরাধ আরও সুক্ষ্ম হয়ে যাচ্ছে। জিনিস-পত্রের দামও আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেছে। এটাও অর্থনৈতিক অপরাধের একটি অংশ।" তিনি বলেন, অধিকাংশ 'ফিন্যান্সিয়াল অপরাধ' দুর্নীতি দমন কমিশনের সিডিউলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ে না। এ ক্ষেত্রে আসলে দুদকের করার কিছুই নেই। "একজন বেঞ্চ অফিসারকে টাকা দিয়ে বছরের পর বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়। এ জন্য দুর্নীতিবাজরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়", বলেন দুদক চেয়ারম্যান। মঞ্জুর এলাহী বলেন, "স্টক মার্কেটে নানা রকম খেলা চলছে। এতে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে। এ সব কারসাজি কারা করছে এসইসি জানে। কিন' তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।" বাংলাদেশ থেকে ফিলিপস কোম্পানির চলে যাওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিলো না বলেই ফিলিপস এ দেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেল। ওই সময় যে সব কোম্পানি ফিলিপসের প্রতিযোগী ছিল, তারা আন্ডারভয়েজের মাধ্যমে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অসৎভাবে ব্যবসা করেছে।" সাবেক এ উপদেষ্টা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "ভবিষ্যতে ব্যবসা এমন একটা পর্যায়ে চলে যাবে, তখন সৎভাবে ব্যবসা করা কঠিন হযে পড়বে। পলিটিক্যাল লিডারশিপ থেকে যদি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্ধকার ছাড়া আমি আর কিছু দেখি না।" অধ্যাপক মইনুল দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্যিকার অর্থে একটা ঝাঁকুনি দেওয়া হয়েছিলো। দুর্নীতি দমন কমিশনকে গত এক বছরে নানাভাবে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। |
|
 |