 |
বিএসএফ’র আগ্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে বিডিআর-বিএসএফ গোলাগুলি ডিবির হাওড়ে ॥ গুলিবিদ্ধ ১৫
সিলেট প্রতিনিধি
নয়া দিল্লিতে বিডিআর-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন শেষ হওয়ার তিনদিনের মাথায় সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার জৈন্তাপুরের ডিবির হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে অন্তত আট বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সিলেট সেক্টরের উপঅধিনায়ক মেজর মো. কোহিনূর আলম। তিনি বলেন, আহতদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। কোহিনূর আলম জানান, দুপুর ১২টা দিকে বিএসএফ এর সহযোগিতায় বিরোধপূর্ণ ডিবির হাওরে ৫০/৬০ ভারতীয় নাগরিকরা মাছ ধরতে আসে। এ সময় বিডিআর ও স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেয়। এতে তারা প্রথম দফায় ফিরে গেলেও পরে এসে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফ বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আহত হয় কমপক্ষে আট জন। এ সময় বিডিআরও পাল্টা গুলি করে। বিকাল সোয়া ৪টায় দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছিল বলে জানান বিডিআর কর্মকর্তা। এর আগেও জৈন্তাপুর সীামন্তের ডিবির হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিএসএফ'র গুলিতে তিন বাংলাদেশি জখমও হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিডিআর মহাপরিচালক জৈন্তাপুর সীমান্ত পরিদর্শন করেন। শনিবার জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার পাদুয়া সীমান্তে বাংলাদেশের ভেতরে পরিখা খনন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। পরে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) প্রতিবাদ করলে তারা ওই স্থান ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রতাপপুর সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে বিডিআর ও বিএসএফ'র মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। সীমান্তে সহযোগিতার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে চারদিনের বিডিআর-বিএসএফ সম্মেলন শেষ হয়। মহাপরিচালক পর্যায়ে দুই বাহিনীর মধ্যে এ বৈঠকে সীমান্ত যখন-তখন বিএসএফ’র গুলি, নিরপরাধ বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫ জন সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ৮ জনকে জৈন্তাপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অপর একজন ডিবির হাওড়ে পড়ে আছে। সংঘর্ষস্থলের মাঝখানে হওয়ায় তাকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। এ রকম গুলিবিদ্ধ আরো অনেকে সংঘর্ষ এলাকায় পড়ে থাকতে পারেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। থেমে থেমে গুলি বর্ষণের কারণে ডিবির হাওড় এলাকায় কোনো উদ্ধারকারী দল যেতে পারছে না। ঘটানস্থলে ৪ কিলোমিটার দূরে কদম খাল ব্রিজের কাছে টিএনও জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বসে আছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের ঘিরে ভিড় করছে আক্রান্ত গ্রামগুলো থেকে পালিয়ে আসা কয়েক হাজার মানুষ। সেখান থেকেও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষ সহস্রাধিক গুলি বর্ষণ করেছে। আতংকে সীমান্তের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। যুদ্ধরত বাহিনীর সমর্থনে উভয়পক্ষই অতিরিক্ত জওয়ান পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের প্রতাপপুর সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করেছে বিডিআর। শনিবার দুপুরে পতাকা বৈঠকের পর উত্তেজনা প্রশমিত হলেও যে কেনো সময় সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মাত্র ১শ গজ দূরত্বে উভয় দেশের বাংকার থাকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন সীমান্তের লোকজন। সীমান্তে বিএএসএফ’র ২০/২৫টি বাংকার খননের জবাবে বিডিআরও বেশ কয়েকটি বাংকার খনন করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। উভয়পক্ষই টহল জোরদার করেছে সীমান্তে। প্রতাপপুর সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার ফজলুল হক গতকাল বেলা সোয়া ১টায় জানান, সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিডিআর। তিনি বিএসএফ’র বাংকার নির্মাণকে উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত দিতে প্রস্তুত রয়েছি আমরা। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। |
|
 |