 |
বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগের জন্য কুয়েতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগের জন্য কুয়েতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল কুয়েত চেম্বার হাউসে তার সম্মানে কুয়েত বণিক সমিতির দেয়া এক ভোজসভায় ভাষণকালে তিনি আহ্বান জানান। তিনি কুয়েতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য আপনারা বাংলাদেশকে বেছে নিলে তা দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্ক উন্নয়নেও সহায়ক হবে।’ শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কুয়েতের ব্যবসায়ীদের সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে কুয়েত চেম্বার অব কমার্স অব ইন্ডাস্ট্রির সহায়তা পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ও কুয়েত উভয়েই লাভবান হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কুয়েত বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অভিন্ন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কুয়েতের মহান শাসক এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যেকার প্রগাঢ় বন্ধুত্বের কারণেই দু’দেশের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ‘কুয়েত বর্তমানে নিজেকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে উপসাগরীয় এই দেশটির সাথে অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী কুয়েত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে, যদিও বর্তমানে বাণিজ্যিক ভারসাম্য কুয়েতের পক্ষে। তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দু’দেশের বাণিজ্যিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ সময়ে কুয়েতে বাংলাদেশের রফতানীর পরিমাণ ৯ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। অপরদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে কুয়েতের রফতানীর পরিমাণ অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও কুয়েত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে এক সাথে কাজ করতে পারে। কুয়েত বাংলাদেশ থেকে উন্নতমানের পোশাক, সিরামিক এবং ওষুধপত্র আমদানি করতে পারে। আরব দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে চামড়া, চামড়াজাত দ্রব্য, ফার্নিচার এবং হস্তশিল্প বিশেষ করে পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাটজাতসামগ্রী আমদানি করতে পারে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ট্যাক্স হলিডে, দ্বৈত কর পরিহার ও আমদানিকৃত মেশিনারির ওপর শুল্ক হ্রাসসহ বর্তমান সরকারের উদার অর্থনীতিক নীতিমালা তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো, ওষুধশিল্প, বস্ত্র, আইসিটি, চামড়া, আসবাবপত্র ও কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ কয়েকটি খাতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুয়েতের উদ্যোগে অনায়াসে এসব খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন। অনুষ্ঠানে কুয়েত চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান আলি মোহাম্মদ তুনায়েন আল জানিম বক্তব্য রাখেন। কুয়েতের বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এসময় উপসি'ত ছিলেন। কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এম্বাসেডর এটলার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব এম এ করিম, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ও কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহিদ রেজা এ সময় উপসি'ত ছিলেন। |
|
 |