 |
খালেদা-দেলোয়ার দ্বন্দ্ব প্রকট আন্দোলনের হাক ডাক ছাড়লেও এখনই মাঠে যাচ্ছে না বিএনপি
এনএনবি
আন্দোলনের জন্য বিএনপি হাক ডাক ছাড়লেও এ মুহূর্তে মাঠে নামতে পারছে না। দলীয় কোন্দলের কারণে কোন সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মহাসচি খোন্দকার দেলোয়ারের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে গত রোববার মধ্যরাতে চিকিৎসার কথা বলে সিংঙ্গপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন দেলোয়ার। এর আগে ১৩ দিন বারডেমে চিকিৎসাধীন থাকলেও দলের নীতিনির্ধারণী কোনো নেতা তাকে দেখতে যাননি। এমনকি তার সমর্থক নেতারাও তাকে এড়িয়ে চলছেন। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে বিএনপির ঘর সামলানোই দায় হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দল গোছানোর নানা উদ্যোগ নিয়েও বিএনপি কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। দলকে চাঙ্গা করে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েও দলটি বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে। সংসদে সামনের সারিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির দাবীতে সংসদ বয়কট করে আসলেও নতুন বছরের শুরুতে সংসদে যোগ দেয়ার জন্য দশ দফা দাবী পেশ করলেও সমপ্রতি দলের সংসদীয় দলের সভা ডেকে সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা বলতে, দেশের স্বার্থে বিএনপি সংসদে যোগ দেবে। বেগম জিয়ার সংসদে যোগ দেয়ার ঘোষণার বিরোধীতা করছে দলের অনির্বাচিত নেতারা। তারা বলছেন, সরকারের কাছে দশ দফা দাবী দিয়ে সেই দাবীর কোন সুরাহা না করে আবার সংসদে যোগ দেয়ার ঘোষণা আত্মঘাতি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, দাবী যখন তোলা হয়েছে তা নিয়ে সরকারের সাথে দেন দরবার করা যেত। তারপর যা হয় তার উপর সিদ্ধান্ত আসলে ভালো হতে। দলে আলোচনা না করে এভাবে সিদ্ধান্ত নিলে জনগণের কাছে দল প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এদিকে ভারতের সাথে অসম চুক্তি, টিপাইমুখে বাঁধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আইন শৃংখলা পরিসি'তির অবনতি সহ নানা ইস্যুতে চারদলীয় জোটের শরীক জামাত জোটবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তাব করলেও বিএনপি তা নিয়ে এ মুহূর্তে মুখ খলতে নারাজ। জামাত চাচ্ছে ৫ম সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে সকল সমগোত্রীয় দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথের আন্দোলন শুরু করতে। কিন' বিএনপি কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে জামাতকে সাথে রাখতে চায় না। বিএনপির ঘরে নেতাদের ঐক্যে ফাটল ধরেছে। খালেদা জিয়া ও দেলোয়ারের দ্বন্দ্বে দলে আবার স্থবিরতা নেমে এসেছে। গত ২৭ জানুয়ারি মুক্তাঙ্গনে দলের প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে চেয়ারপার্সন দায়িত্ব দিলে তার পাল্টা সভা ডাকেন দেলোয়ার ও মির্জা আব্বাসের অনুসারি ডেমরা আসনের সাবেক এমপি দৌড় সালাউদ্দিন। ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা জিয়া সব নেতকে মুক্তাঙ্গনে উপসি'ত থাকার নির্দেশ দিলেও তাতে দেলোয়ার ও মির্জা আব্বাস যাননি। ফলে পরদিনই দৌড় সালাউদ্দিনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ক্ষোভে দেলোয়ার অসুস্থতার কথা বলে বারডেমে ভর্তি হন। ফলে তার নির্ধারিত দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেয়া সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, দেলোয়ার এর চেয়ে বেশি অসুস্থ হয়েও কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন আগে। দেলোয়ার কখন দেশে ফিরবেন তা দলের কেউ বলতে পারছেন না। |
|
 |