al-ihsan.net
বাংলা | English

মুফতে হান্নানের স্বীকারোক্তি: ২১ আগস্ট হামলার পরিকল্পনা হয় হাওয়া ভবনে
আল ইহসান ডেস্ক

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে সভা হয় বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনে। ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিএনপি নেতা তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরী, জামাত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস্‌ সালাম পিন্টু; হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম ও মাওলানা শেখ ফরিদ এবং ফ্রিডম পার্টির মেজর নূর উপসি'ত ছিল।
সেই সভাতেই শেখ হাসিনার উপর হামলা চালানোর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এক সাক্ষাৎকারে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতে হান্নান। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের তৈরি করা এক প্রামাণ্য দলীলে দেওবন্দী ঘরানার জঙ্গি নেতা মুফতে হান্নান এ সাক্ষাৎকার দেয়।
মুফতে হান্নান জানায়, সেদিনের সভায় হামলার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। পরে আরেকটি বৈঠক হয়। বৈঠকে মুফতে হান্নান ছাড়াও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়্যবার নেতা ওবায়দুল্লাহ উপসি'ত ছিল।
মুফতে হান্নান সেই হামলার তিন কৌশলের কথা জানায়। এর মধ্যে শেখ হাসিনার বাড়িতে, পথে অথবা জনসভায় হামলার করা যেতে পারে। পরে জনসভায় হামলার সিদ্ধান্ত হয়। মুফতে হান্নান তার সাক্ষাৎকারে আরো জানায়, ২১ আগস্ট ঘটনার দিন সে ঢাকায় তাদের দারুল আরকান অফিসে ছিল।
সকাল ৯টায় মুফতে হান্নান অফিসে যায় এবং সেখানে একটি সভা করে। ওই সভার পরই যে যার মতো দায়িত্ব বুঝে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। মুফতে হান্নান জানায়, হামলার দাযিত্বপ্রাপ্তরা সকালেই যার যার স্পটে চলে যায়। তবে হামলাটি কেন ব্যর্থ হলো এমন এক প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, ওই দিন বিশৃঙ্খলার কারণেই হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে।
মুফতে হান্নানের দেয়া তথ্য মতে, ঘটনার দিন তাদের সঙ্গে জামাত-শিবিরের ১৫ জন কর্মী ছিল। তবে প্রয়োজনের সময় তাদের সঙ্গে যথার্থভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই হামলা ব্যর্থ হয়।
এতে হরকাতুল জিহাদের কমান্ডার ইউনুস স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, দেশে এক লাখের উপর প্রশিক্ষিত জঙ্গি রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠন এদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। আরেক জঙ্গি জানায়, বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন দেশে ফিরলেই হত্যা করা হবে। অন্য জঙ্গিদের মুখে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।
জঙ্গি-যুদ্ধাপরাধীদের প্রসঙ্গে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীরা যত মাঠে থাকবে তত তাদের বিচার কাজ কঠিন হয়ে পড়বে। বিঘ্নিত হবে দেশের নিরাপত্তা। তাই বিলম্ব না করে তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি রাখা উচিত। সাবেক বিচারপতি গোলাম রব্বানী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ধাপ্পাবাজি করার কোন সুযোগ নেই। কারণ গত সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ সম্পন্ন করাকে সহজ করে দিয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ায় তারা এখনো আমাদের রাজনৈতিক ও সমাজ জীবনকে প্রভাবিত করছে।




For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal