al-ihsan.net
বাংলা | English

অনেক এমপিই দলের নির্বাচনী ইশতেহার কী? তা যেমন জানেন না । তেমনি এমপি’র আসল কাজ কী? এবং আসল গুরুত্ব কোথায়? তাও বুঝেন না। জোট সরকারে শুধু হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নয়, দুর্নীতিবাজ এমপিরা- এমপি হোস্টেলের বদনা চুরির মত ছিঁচকে চোরের উদাহরণও তৈরি করতে ছাড়েননি। এমপি মানে যে আসলে ‘ল মেকার’- এ চেতনাবোধ জনমনে জাগরিত থাকলে এমনটি এত সহজে হতে পারত না। ছিঁচকে চোরের হাতে জনগণ আইন তৈরির মত গুরুগম্ভীর বিষয় ছেড়ে দিত না। বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার অনেক বেশি দাবি করলেও দেশে সাধারণ শিক্ষিত বা সচেতন লোকের সংখ্যা আসলে খুবই কম। জনগণকেই তাই সচেতন হতে হবে নিজেদের স্বার্থেই
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত সংসদ সদস্য আচরণ বিলটিতে সংসদ সদস্যদের আরচণ নির্ধারণের পাশাপাশি তাদের জন্য কিছু বিধি-নিষেধ প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত এ বিলে সংসদ সদস্যদের ৫ হাজার টাকার বেশি মূল্যের উপঢৌকন নেয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাছাড়া সরকারি সম্পদকে নিজের আয় উপার্জনের জন্য ব্যবহার না করা, আইন মেনে চলাসহ নানা দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংসদ সদস্যদের দ্বারা গঠিত নৈতিকতা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংসদের কাছে সুপারিশ করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত “সংসদ সদস্য আচরণ আইন ২০১০: কি এবং কেন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গোলটেবিল বৈঠকে বিলটির উত্থাপক সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি মূল আলোচক ছিলেন।
প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিলের উদ্দেশ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য অবশ্যই একটি আচরণবিধি থাকা দরকার।
সভায় ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, এ আইন সংসদ সদস্যদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ক্ষমতা পেয়ে যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে, সেজন্যই এটা জরুরি। আইন ভঙ্গকারীরা যাতে আইনপ্রণেতা না হন সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। তবে আইনটি হওয়ার আগে আরো বেশি আলোচনা হওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ উচ্চারণ করেন ‘এমপি’। ‘এমপি’ মানে তারা বোঝেন পাঁচ বছরের জন্য এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্‌রাসা, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি তৈরির সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত লোক।
যারা একটু শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন তারা বুঝে থাকেন, ‘এমপি’ মানে- ‘জনপ্রতিনিধি’।
যারা আরেকটু সচেতন তারা মনে করেন এমপি মানে ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি’।
এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে এলাকার জনগণের সমস্যার কথা তুলে ধরবেন। বরাদ্দ চাইবেন।
এক্ষেত্রে যিনি যত সাবলীল ভাষায়, সুন্দর করে কথা বলতে পারেন, তাকে তারা মনে করেন তত দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান।
কিন্থ আসলে এমপি মানে যে গবসনবৎ ড়ভ চধৎষধসবহঃ
‘এমপি’ মানে যে আইনসভার সদস্য আইন প্রণেতা তথা খধ িসধশবৎ
এটা বোধকরি এমপি সাহেবদেরও অনেকে জানেন না।
আইন প্রণেতার চেয়ে বড় ‘জনগণের নির্বাচিত সাংসদ’ হিসেবেই তারা ভাবনায় আচ্ছন্ন থাকেন বেশি।
১৯৭২-এর সংবিধান প্রণয়নের পর কোন সংসদ অধিবেশনই
মূলত আইন পর্যালোচনা, নতুন আইন প্রণয়ন, পেছনের আইন বাতিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকর ও জোরদার ভূমিকা দেখাতে পারেনি।
সে সাথে এযাবৎ অনুষ্ঠিত সব সংসদ অধিবেশনে নতুন আইন প্রণয়নে
আইনগত দিকের পর্যালোচনা
জনস্বার্থ সম্পৃক্ততা
আইনের গভীরতা
আইনের ব্যাপকতা
আইনের অসংযততা
আইনের ব্যর্থতা
ইত্যাদি সম্পর্কে তুমুল ও তুখোড় আলোচনার নজির দেখাতে পারেননি কেউ।
এ কারণে আমাদের নবম সংসদ অধিবেশনেও সংশোধনীর সংখ্যা মাত্র ১৮টিও পার হয়নি।
আর সংশোধনী বিল যা এসেছে তাতে সবাই ‘রাবার স্ট্যাম্পের’ মত সিলই প্রদান করেছেন।
অর্থাৎ আমাদের সাংসদরা মূলত
দলীয় এমপি হিসেবে নিজেদের ভাবছেন।
আইন প্রণেতা হিসেবে নিজেদের বিবেচনা করেননি।
একজন আইন প্রণেতা হিসেবে-
নিজেদের কি ব্যক্তিত্ব?
জ্ঞানের গভীরতা?
চরিত্রের দৃঢ়তা থাকা উচিত
সে চিন্তাও তারা অনেকেই করেননি বা করেন না।
যে কারণে অনেক সাংসদ ছিঁচকে চোরের মতও আচরণ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।
গত ০২.০৬.২০০৯ ইং তারিখে ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত “এমপি হোস্টেল থেকে তারা ঘটিবাটিও নিয়ে গেছেন!” শীর্ষক এই রিপোর্ট তাই প্রমাণ করে।
রিপোর্টে বলা হয়: “সপ্তম ও অষ্টম সংসদের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শতাধিক সাংসদ এমপি হোস্টেল ছেড়ে যাওয়ার সময় সরকারি আসবাবপত্রও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে চেয়ার, টেবিল, খাট, আলনা, ফ্রিজ, রিমোট কন্ট্রোল, প্যাডেস্টাল ফ্যান, টিফিন ক্যারিয়ার ও ডিনার সেট। ব্যবহারের জন্য দেওয়া লেপ, তোশক, বালিশ, বেডশিট, পর্দা, মশারি, জগ, মগ এমনকি তালারও হদিস পাওয়া যায়নি। নোটিশ দেওয়ার পরও সাংসদরা এসব আসবাবপত্র ফেরত দেননি।”
গতকাল ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকায় শেষ পৃষ্ঠায় বক্স আইটেমে খবর হয়:
“বই খেলাপি ৮ এমপি”- সংসদ গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে ফেরত দেননি অষ্টম জাতীয় সংসদের আট সাংসদ। বইখেলাপি এ সাংসদদের নামের তালিকা তৈরি করেছে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। বই ফেরত চেয়ে তাদের কাছে কয়েক দফা চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তারপরও বই ফেরত দিচ্ছেন না তারা।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত অষ্টম সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও ১৩ সাবেক সাংসদ সংসদ গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বই ফেরত দিচ্ছিলেন না। এ ব্যাপারে ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর গ্রন্থাগারের উপ-পরিচালক ও প্রধান গ্রন্থাগারিক সংসদের হিসাব শাখা-২-এর কাছে আপত্তিপত্র পেশ করেন। আপত্তিপত্র পেশের কয়েকদিন পর সাবেক সাংসদ আবদুল হাই, জহির উদ্দিন স্বপন, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম তাদের নেওয়া সাতটি বই ফেরত দেন। তবে বাকি আটজন এখনো বই ফেরত দেননি বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়।
টিআইবি’র সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন,
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে এসব চুরি চামারির শুরু। তিনি বলেন, কেবল সংসদ সচিবালয় নয়, সরকারের পদস্থ অন্যান্য কর্মকর্তার বেলায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
এর সঙ্গে গণপূর্তসহ নানান পক্ষ জড়িত। তিনি মনে করেন, সরকারের সম্পদ নষ্ট করা এবং নিয়ে যাওয়া দুটি ভিন্ন রকমের অপরাধ। সরকারের সম্পদ নিয়ে গেলে এমপিদের বিরুদ্ধে সিভিল স্যুট হওয়া উচিত।”
মূলত এটাই আসলে এক নম্বর আশ্চর্যের বিষয় যে, যে ল’ মেকার সমাজে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আইন প্রণয়ন করবেন
তাদের বিরুদ্ধেই আইনকে পদদলিত করার এমনকি পাহাড় পরিমাণ দুর্নীতি তথা সাগর চুরির থেকে আরম্ভ করে বদনা চুরির মত ছিঁচকে চুরি অপরাধের অভিযোগও গঠন করতে হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
বলাবাহুল্য, এ অভ্যাস যে কত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার উদাহরণ হলো- বিখ্যাত শিল্পপতি করিম উদ্দীন ভরসাও টিফিন ক্যারিয়ারটিও পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাংসদরা সশ্রদ্ধ চিত্তে এই বলে শপথ নেন, আমি যে কর্তব্য ভার গ্রহণ করিতেছি, তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম ও আনুগত্য পোষণ করিব; এবং সংসদ সদস্য রূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।
টিআইবি’র সাবেক চেয়ারম্যানের মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকেই ছাত্র নেতারা এসব চুরি-চামারির অনুশীলন করে; যারাই পরে এমপি হয়। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত অনিবার্যভাবে দুটো তীর্যক প্রশ্ন এখানে সম্পৃক্ত হয়।
সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ- বিশ্ববিদ্যালয় তাহলে কি শিক্ষা দিচ্ছে, যা মহাচোর থেকে ছিঁচকে চোরের খাছলতও তৈরি করে দেয়?
এটা তাহলে কোন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা?
এবং কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?
সঙ্গতকারণেই এ প্রশ্ন কী তাহলে ঘনীভূত হয় না যে, এর অনিবার্য এবং আশু পরিবর্তন দরকার।
বলাবাহুল্য, সেক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষা এবং আদর্শের সমন্বয়ই কী একমাত্র প্রতিকার এবং প্রতিষেধক নয়?
পাশাপাশি দ্বিতীয় যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, তা হলো- গণতন্ত্রের নামে
নির্বাচনের নামে
এ কোন্‌ ধরনের রাজনীতি দেশে চালু রয়েছে,
যেখানে তিনশ’ এমপি’র মধ্যে প্রায় দেড়শ’ এমপিই ছিঁচকে চোরের মত আচরণ করতে ছাড়েন না। লেপের কভারটা পর্যন্ত চুরি করে নেন। নাঊযুবিল্লাহ!
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “চুরিও করো না এবং কেউ চুরি করতে পারে সে সুযোগও দিও না।”
আসলে দেশের জনগণ এ হাদীছ শরীফ জানে না, আমল করে না।
তারা যদি অজ্ঞতার মধ্যে বিরাজ না করতো
নিজেদের অধিকার সম্পর্কে নিষ্ক্রিয় না থাকতো
ফাসিক-ফুজ্জারদের মূল্যায়ন না করতো
বিজাতীয়-বিদ্‌য়াতী-হারাম পন্থায় অংশগ্রহণ না করতো
ইসলাম অনুসরণ করতো
তাহলে তাদের উপর বর্ণিত সাংসদদের ন্যায় এ রকম ব্যক্তিত্ব রাজত্ব করতো না।
কাজেই শুধু রাজনীতিবিদদের দূষলেই হবে না, সত্যিকার সুফল পেতে চাইলে জনগণকে অজ্ঞতা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিহার করতে হবে নিজেদের স্বার্থেই।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যেদেশের জনগণ যেরকম সেদেশে আল্লাহ পাক সেরকমই শাসকই পাঠিয়ে দেন।”
আর কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যমীনে এবং পানিতে যত বিপদ-আপদ, বালা-মুছীবত সব মানুষের হাতের কামাই।”
কাজেই মন্ত্রী-এমপিদের দোষ দেয়ার আগে জনগণকে নিজের দোষই আগে খুঁজতে হবে।
অজ্ঞতা এবং নিষ্ক্রিয়তা দুটোই মহাপাপ।
কিন্থ দেশের জনগণ শুধু এ দু’মহাপাপেই আক্রান্ত নয়
পাশাপাশি তারা ইসলামের প্রতিও আগ্রহী নয়। অথচ তারা মুসলমান দাবিদার।
মূলত কুরআন-সুন্নাহ পালনেই যে মুসলমানদের মুক্তি আর না পালনে সব আযাব-গযব,
দেশি-বিদেশী লাঞ্ছনা-গঞ্জনা
তা আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদায় হজ্জের মশহুর খুৎবায় বলে গেছেন। যা আজও জ্বলজ্বল করছে।




For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal