al-ihsan.net
বাংলা | English

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪৩১ হিজরী) উপলক্ষে রাজারবাগ শরীফ-এ আয়োজিত ৪১ দিনব্যাপী মাহফিলের ২৮তম দিনে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, উনার ১০ম দিনের ওয়াজ শরীফ (১ম অংশ)

আল্লাহ পাক যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব উনার লক্ষ কোটি রহমত; যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লক্ষ কোটি ইহসান যার কারণে যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষ ৪১ দিনব্যাপী মাহফিলের ইন্তেজাম করা সহজ এবং সম্ভব হচ্ছে। মূলত যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক আর যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রহমত, বরকত, ছাকীনা, মাগফিরাত, ইহসান ব্যতীত কারো পক্ষেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে ৪১ দিনব্যাপী মাহফিলের ইন্তেজাম করা কখনোই সহজ এবং সম্ভব নয়। ৪১ দিনব্যাপী মাহফিলের প্রথম ১৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে প্রতিযোগিতায় এরপর ২০ দিন হচ্ছে ওয়াজ মাহফিল ৩ দিন সামার মাহফিল। ওয়াজ মাহফিলের আজকে আমরা ১০ম দিনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছি। যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক এবং যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রহমত, বরকত, ছাকীনা, মাগফিরাত, ইহসানের কারণে আজকেও আমরা যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মর্যাদা-মর্তবার বিষয় আলোচনা করতে পেরেছি।
আজকেও প্রায় পাঁচটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে, সেটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে মদীনাতুন নববী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মদীনা শরীফ। যে মদীনা শরীফ-এর বুযূর্গী, সম্মান নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনি বর্ণনা করেছেন সেই মদীনা শরীফ মদীনাতুন নবী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এর খুছুসিয়ত আলোচনা করা হয়েছে। দ্বিতীয় আলোচনা করা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতা। আসলে এই শব্দটা ব্যবহার করা যেহেতু ভাষাগত অন্য কোন শব্দ নেই। আসলে এই শব্দটা ব্যবহার করাটাও আদবের অন্তর্ভুক্ত নয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনি সমস্ত শব্দ অর্থ বাক্য সব কিছুর চাইতেও বেশি পবিত্র থেকে পবিত্রতম। শুধু তাই নয়, তিনি পবিত্রতাকারী। সুবহানাল্লাহ! সেই বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর তৃতীয়ত যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে সেটা কাফির, মুশরিক বেদ্বীন, বদদ্বীন, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, মুশরিকরা মুসলমানদের প্রতি জুলুম করার কারণে তাদের যে ধ্বংস হচ্ছে এরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই বিষয়টা সম্পর্কে। আর চতুর্থত যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, সেটা উলামায়ে ছূ’ যারা রয়েছে যারা যুগে যুগে হক্বের বিরোধিতা করে থাকে, লাঞ্ছিত হয়ে থাকে, অপমানিত হয়ে থাকে, হচ্ছে এবং হবে তাদের বিষয় সম্পর্কে। আর পঞ্চম যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, সেটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইছমত সম্পর্কে অর্থাৎ উনারা যে মাছুম এই সম্পর্কে। প্রকৃতপক্ষে এই শব্দগুলি থেকেও উনারা পবিত্র। সুবহানাল্লাহ!
এখন প্রথম যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে মদীনাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মদীনা শরীফ-এর ফযীলত। প্রতিটি বিষয়ই আমরা যেটা বলে থাকি সময় অনুযায়ী যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। দলীল-আদিল্লা পেশ করা হয়েছে। কারণ প্রত্যেকটা বিষয় যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত। কাজেই এই বিষয়গুলি আলাদাভাবেই সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কায়িনাত এক সাথেও যদি আলোচনা করে তারপরও বিন্দু থেকে বিন্দুতম তারা শেষ করতে পারবে না। তারপরেও অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিষয়গুলি নির্দিষ্ট করেছি। যাতে সকলেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের যে আক্বীদা সেটা জেনে নিজের আক্বীদা বিশুদ্ধ করে সে খালিছ বান্দা, উম্মত এবং মুরীদ সালেক হতে পারে সেজন্যই এই ব্যবস্থা। কাজেই সময় অনুযায়ী যতটুকু আলোচনা হয়ে থাকে যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক আর যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইহসানে সেটা আশা করা যায় পর্যাপ্ত পরিমাণেই আলোচনা হয়ে থাকে দলীল-আদিল্লাভিত্তিক। এই মদীনা শরীফ-এর পবিত্রতা মানুষ কি বর্ণনা করবে। এখন যেখানে হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে স্বয়ং খলীক্ব, মালিক, রব তিনি মদীনা শরীফ-এর নাম দিয়েছেন, নাম মুবারক রেখেছেন, বর্ণনা করেছেন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে মদীনা শরীফ-এর আল্লাহ পাক কি নাম মুবারক রেখেছেন! “ত্বয়িবা”। উত্তম, ভালো, পবিত্র, শ্রেণী ইত্যাদি সব অর্থ এর মধ্যে এসে যায়।
কাজেই মদীনা শরীফ-এর বরকত, খুছুছিয়ত হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যদি কারো পক্ষে সম্ভব হয় সে যেন মদীনা শরীফ-এ ইন্তেকাল করে, বিছাল শরীফ লাভ করে।” যে মদীনা শরীফ-এ ইন্তেকাল করবে, বিছাল শরীফ লাভ করতে পারবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি তার জন্য সুপারিশ করবো।” সুবহানাল্লাহ!
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সব সময় দোয়া করতেন উনার মেয়ে হযরত উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি সেটা বর্ণনা করেন, যেন তিনি মদীনা শরীফ-এ বিছাল শরীফ লাভ করেন, শাহাদাত বরণ করেন। হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সব সময় সেটা দোয়া করতেন। যার জন্য জিহাদে শাহাদাত বরণ করার জন্য স্বয়ং হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিহাদে যেতে চেয়েছেন অনেকবার কিন' ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাকে অনুমতি দেননি। যেহেতু তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন। তিনি দোয়া করেছেন, আল্লাহ পাক আপনার রাস্তায় আমাকে শাহাদাত বরণ করার তাওফিক দান করুন। আপনার যিনি নবী, রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহরে বিছাল শরীফ লাভ করার তাওফিক দান করুন। স্বয়ং হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমার চিন্তা হল তাহলে কি করে সম্ভব হবে এই শহরে থেকে শাহাদাত বরণ করা, বিছাল শরীফ লাভ করা। কিন' সেই আবু লুলু মজুসীর বিষাক্ত ছুরির দ্বারা তিনি আক্রান্ত হয়ে মদীনা শরীফ-এ বিছাল শরীফ লাভ করেন, শাহাদাতের দরজা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ! এখন মদীনা শরীফ-এর যে গুরুত্ব, মর্যাদা, ফযীলত সেটা বুঝানোর জন্য হযরত উমর বিন খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাধ্যম দিয়ে আল্লাহ পাক এই ঘটনাটা ঘটিয়েছেন। এখন ইজমার যে বিষয়টা আমরা সব সময় আলোচনা করে থাকি, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকের কোন এক অঙ্গ মুবারক যে মাটিতে স্পর্শ করেছে সেই মাটি মুবারক সেই বস্থ বিষয় মুবারকগুলি কাবা শরীফ, কুরসী এমনকি আরশে মুয়াল্লা থেকেও লক্ষ কোটি গুণ বেশি সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এরপরে মদীনা শরীফ-এর আর কি মর্যাদা, মর্তবা বলা হবে? এর তো আর কোন মেছাল নেই। বেমেছাল মর্যাদা আল্লাহ পাক দিয়েছেন। আলোচনা করা হয়েছে। তবে আমাদেরকে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফ-এর ইজ্জত-সম্মান, হুরমত বুঝে অনুধাবন করে তাযীম, তাকরীম করে যিনি খলীক্ব, মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক আর যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং প্রত্যেক সালেক তার শায়েখ উনার মুহব্বত, মা’রিফত, তায়াল্লুক নিছবত হাছিল করে খালিছ বান্দা, উম্মত এবং সালিক হতে পারি সেই তাওফিক যেন আল্লাহ পাক আমাদের দান করেন।
এরপর যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতা সম্পর্কে।
এখন এই বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়, কঠিন একটা বিষয়। এখন যিনি মাটি স্পর্শ করলে সেই মাটি মুবারক আরশে মুয়াল্লার চাইতে বেশি সম্মানিত হয়ে যায়। তাহলে উনার অবস্থাটা কি সেটা তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। তিনি কত সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত, বুযূর্গীপ্রাপ্ত সেটাতো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ বললেন, নিকটবর্তী হলেন, ঝুঁকে গেলেন এবং দুই ধনুকের মাথা যতটুকু তার চাইতে বেশি তিনি নিকটবর্তী হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহ পাক যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব উনার যিনি এতো নিকটবর্তী তাহলে উনার পবিত্রতা উনার ত্বহারাত, উনার মর্যাদা, মর্তবা, খুছুছিয়ত বলার অপেক্ষা রাখে না। মদীনা শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকের কারণে সম্মানিত হয়ে গেছে, ফযীলতপ্রাপ্ত হয়ে গেছে; আরশে মুয়াল্লা থেকেও বেশি। তাহলে যিনি এর মূল তাহলে উনার মর্যাদা, মর্তবা কতটুকু? সেটা আলোচনা করা হয়েছে।
এখন বাতিল ফিরক্বা বদ মাযহাব, এরা চু-চেরা, কিল ও কাল করে থাকে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারকে যা কিছু রয়েছে সেটা শুধু পবিত্র বললে তো ভুল হবে। উনার ইস্তিঞ্জা বললে তো ভুল হবে। উনার ইস্তিঞ্জা মুবারক যারা পান করেছেন তারা জান্নাতী হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! সেটা আলোচনা হয়েছে।
আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাতে আমরা এটা সব সময়ই লিখে থাকি, এই পবিত্রতার বিষয়টা। আসলে ভাষাগত আর কোন শব্দ নেই সেজন্য লেখা যাচ্ছে না। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাবে লিখেছেন, “যিনি খলীক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক তিনি ‘আল্লাহ’ শব্দ থেকেও পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ!
বিষয়টা আসলে এ রকমই। আসমান-যমীনে, আল্লাহ পাক, উনার কায়িনাতে যতকিছু লিপিবদ্ধ রয়েছে, কাগজে, কলমে, অক্ষরে, শব্দে; এই সমস্ত কিছুর চাইতেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র, পাক এবং এর ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
এখন উনার পবিত্রতা সম্পর্কে যেহেতু যাদের অন্তরে গালিজ রয়েছে, নাপাকি রয়েছে, সেতো কখনও ভালো জিনিস দেখতে পারে না।
আল্লাহ পাক বলেন, অপবিত্র থেকে শুধু অপবিত্রই বের হয়ে থাকে। নাপাকি থেকে নাপাকিই এসে থাকে। নাপাকি থেকে তো ভালো জিনিস আসতে পারে না। এখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতা সম্পর্কে আলোচনা করাটাও যদি ফিকির করা হয় তাহলে এটার আদব রক্ষা করা, আদব রক্ষা করে বলা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় ঈমান একশতে একশই তার নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি শুধু পবিত্র নন, বরং পবিত্রতাকারী আর শুধু পবিত্রতাকারীই নন বরং পবিত্রতা দানকারী শুধু এতটুকুই নয় বরং উনার উছিলায় সমস্ত কায়িনাত যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত, মারিফত, তাওয়াল্লুক, নিছবত হাছিল করার যোগ্যতা অর্জন করেছে, নাজাতের যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং পরকালে দীদার হাছিলের যোগ্যতা অর্জন করবে, রেযামন্দি হাছিলের যোগ্যতা অর্জন করবে সবই অর্জন করেছে ও করবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণে। যেহেতু আল্লাহ পাক উনাকে সমস্ত বিষয়ের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতম করে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেটা সূরা কাওছারে বলা হয়েছে, “আপনাকে আমি কাওছার দান করেছি, খাইরে কাছির দান করেছি।” এর লক্ষ কোটি অর্থ রয়েছে তার একটা অর্থ হচ্ছে খাইরে কাছির। অর্থাৎ আপনার উছিলায় সমস্ত কায়িনাতই খাইরে কাছির লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ! তিনি তো খাইরে কাছিরের ঊর্ধ্বে। এই শব্দ যা রয়েছে, তার চাইতেও তিনি ঊর্ধ্বে। উনার উছিলায়ই সকলে খাইরে কাছির লাভ করেছে। কাজেই উনার পবিত্রতার তো কোন প্রশ্নই আসতে পারে না।
শানের খিলাফ কথা বাতিল মাযহাবের লোকেরা, কাফিররা তো বলবেই। যারা নাস্তিক, যারা কাফির তারাতো আল্লাহ পাককেও অস্বীকার করে। তাহলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানের খিলাফ বলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কারণ যার অন্তরে যেটা রয়েছে, ‘পাত্রে আছে যাহা, ঢালিলে পড়িবে তাহা’। এখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্রতা দানকারী। তিনি পবিত্রতা দানকারী সৃষ্টি করেন। উনার উছিলায়, উনার ছোহবতে, উনার তাছিরে মদীনা শরীফ-এর মাটি ‘খাক-ই শিফা’। মদীনা শরীফ-এর মাটি যদি কেউ খায় তার রোগ সেরে যায়। সুবহানাল্লাহ!
এখন এটা থেকেই তো সহজে অনুধাবন করা যায়, তিনি শুধু পবিত্রতা দানকারী নন বরং উনার ছোহবতে গেলে, উনার তাছিরে পবিত্রতাদানকারী পয়দা হয়। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উনার ত্বহারাতের যে বিষয়টা সেটা বান্দাদেরকে খুব চিন্তা করতে হবে এবং হাজারে লক্ষ কোটি গুণ হুসনে যন রাখতে হবে, বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। যদি কেউ সত্যি খালিছভাবে এই আক্বীদা পোষণ করতে পারে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু পবিত্র নন, পবিত্রতা দানকারীও শুধু নন বরং পবিত্রতা দানকারীদের তিনি তৈরি করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সে বিনা হিসেবে একদম প্রথম শ্রেণীর জান্নাতী হবে। সুবহানাল্লাহ! কাজেই আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে সেই আক্বীদাই পোষণ করার তৌফিক দান করেন।
এরপর যে বিষয়টা আলোচনা করা হয়েছে, কাফির, মুশরিকদের অবস্থা তারা জুলুম করার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক লম্বা আলোচনা করা হয়েছে। কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ পাক বলেন, “হে আমার হাবীব! বলে দিন, আল্লাহ পাক আপনি সব কিছুর মালিক, যাকে ইচ্ছা তাকে আপনি ক্ষমতা দিতে পারেন। নিয়েও নিতে পারেন। যাকে ইচ্ছা আপনি ইজ্জত দিতে পারেন ইজ্জত নিয়েও নিতে পারেন। সে যদি ইজ্জত রক্ষা করতে না পারে তাহলে ইজ্জত নষ্ট হয়ে যায়।” এই যে বিষয়টা আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ স্পষ্ট করে বলে দিলেন। এখন সময় মানুষের মধ্যে ঘুরে থাকে। কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনরা জালিয়াতি করে, প্রতারণা করে, ধোঁকা দিয়ে মুসলমানদের থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। নিয়ে তারা মুসলমানদের জুলুম করার কোশেশ করে যাচ্ছে। এখন তার যা বদলা সেটা তাদের ভোগ করতেই হবে। সেটাই আল্লাহ পাক বলে দিলেন। যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমতা দেন আর যারা অবাধ্য হয় তাদের থেকে ক্ষমতা নিয়ে নেন। যাকে ইচ্ছা তিনি ইজ্জত দেন আর যে ইজ্জত রক্ষা করতে পারে না সে লাঞ্ছিত হয়। এখন নমরূদ সতেরশ’ বছর রাজত্ব করার পরেও লাঞ্ছিত হয়েছে। সাদ্দাদ এক হাজার বছর। ফেরাউন ৪০০ বছর। এরা অনেক লম্বা কাজ করেছে। এরা ধ্বংস হয়ে গেছে। এদেরকে ধ্বংস করতে কিন' আল্লাহ পাক উনার কিছু খরচ হয়নি। একটা লুলা ল্যাংড়া মশা খরচ হয়নি। সাদ্দাদ মাটিতে ধসে গেছে, কারুন মাটিতে ধসে গেছে। ফেরাউন পানিতে ডুবে মরে গেছে কিছুই খরচ হয়নি। আল্লাহ পাক সেটা দেখিয়েছেন দেখ আমার যে ক্ষমতা তোমরা তো কল্পনা করতে পারবে না। আমি কিন' সব কিছু সামান-আসবাব ছাড়াই করতে পারি। এখন কাফির-মুশরিকরা বড় বড় বুলি আওড়ায় যে- তারা সুপার পাওয়ার অমুক পাওয়ার হয়েছে। আল্লাহ পাক বললেন, কোন পাওয়ার আল্লাহ পাক উনার কাছে তো কিছুই না। এখন তাহলে আবার দেখ তাদের অবস্থা কি হয়? এখন কাফির, মুশরিকগুলি ধ্বংস হচ্ছে, এদের লক্ষ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে নানান কারণে। এদের সাথে যদি কেউ এখন জিহাদ করে এদেরকে ধ্বংস করতে যেত তাহলে যা ধ্বংস করা হয়েছে পৃথিবীর সব টাকা এক সাথে করলেও সেটা দিয়ে অস্ত্রপাতি খরিদ করলেও এতটুকু ধ্বংস করা যেত না। কিন' আল্লাহ পাক বিনা পয়সায় এদের এভাবেই ধ্বংস করে দিচ্ছেন। যেমন নমরুদ, সাদ্দাদ, ফেরাউন, কারুন ধ্বংস হয়ে গেছে। ঠিক এভাবেই তারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদেরকে অনেক আগেই বলেছি তাদের শেষ ফয়সালা হচ্ছে ইস্তিগফার তওবা করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা মুসলমানদের কাছে। তারা যদি তওবা-ইস্তিগফার করে ফিরে আসে জুলুম বন্ধ করে তাহলে হয়তো তারা বেঁচে যেতে পারে। অন্যথায় এরা কিন' আর বাঁচবে না। এদের যে কঠিন অবস্থা এরা আফসে আপ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে। কেউ তাদেরকে হিফাজত করতে পারবে না। যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক আর যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যদি রহমত বর্ষণ না করেন, হিফাজত না করেন, কারো পক্ষে বাঁচার কোন সুযোগ নেই। কাজেই এখন তাদের শেষ পর্যায় তারা পৌঁছেছে। তাদের বার বার বলা হচ্ছে। আমাদের পত্রিকায় আমরা অনেকবার বলেছি। আলোচনায় আমরা বলেছি। এখনও সময় আছে তারা যদি ফিরে আসে বাঁচবে। অন্যথায় এরা কিন' আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার কুদরত। আল্লাহ পাক উনার ধরা অত্যন্ত কঠিন। কাজেই এই কাফির মুশরিকদের প্রতি আমাদের শেষ বক্তব্য সেটা হচ্ছে সময় এখনও তোমাদের রয়েছে- তওবা করে ফিরে আসো আর ঈমানদার হয়ে যাও আর না হলে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জুলুম বন্ধ করে দেও। অন্যথায় তোমাদের কিন' রেহাই নেই। আমরা তোমাদের বারবার জানাচ্ছি। পৌঁছে দেয়া হচ্ছে আমাদের দায়িত্ব। আর পালন করা হচ্ছে তোমাদের দায়িত্ব। কাজেই আল্লাহ পাক যেন আমাদের সব সময়ই যিনি খলীক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব আল্লাহ পাক উনার মতে মত যিনি নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথে পথ এবং প্রত্যেক মুরীদ সালিকের তার শায়েখ উনার মতে এবং পথে ইস্তেকামত থাকার যেন তাওফিক দান করেন।
(অসমাপ্ত)




For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal